1. kumarshuvoroy.bd@gmail.com : Shuvo Roy : Shuvo Roy
  2. eshuvo1@gmail.com : newsdesk :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪২ অপরাহ্ন

পারিবারিক কলহে বিষপান : ওসিদের নামে চিরকুট

  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩
  • ২২৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিনিধি :  পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পারিবারিক কলহের জেরে আল মামুন (৪০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে । মারা যাওয়া মামুন ইন্দুরকানী উপজেলার গাবগাছিয়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে এবং থানা ঝাড়ুদারে কর্মরত ছিলেন।

তবে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে । মৃত্যু ব্যাক্তির পাশেই একটি চিরকুট পাওয়া গেছে যেখানে মৃত্যুর কারন হিসেবে জেলার ইন্দুরকানী থানার ওসি ও পিরোজপুর সদর থানার ওসিকে দায়ী করা হচ্ছে ।

চিরকুটটি এমন ছিলো- ‘আমি নিরদোশ (নির্দোষ)। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইন্দুরকানী থানার ওসি এনামুল হক আর পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবির মো. হোসেন। আমি ইন্দুরকানী থানার ওসির টাকা চুরি করি নাই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
সোমবার (৫ জুন) পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার গাবগাছিয়া গ্রামে বিষপানের পর ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

থানাসূত্রে জানাযায়, নিহত আল মামুন প্রায় ১০ বছর ইন্দুরকানী থানায় ঝাড়ুদারের চাকরি করার পর দুই মাস আগে ইন্দুরকানী থেকে পিরোজপুর সদর থানায় বদলি হয়ে আসেন। তবে সে প্রতিদিন ইন্দুরকানী থেকে পিরোজপুরে এসে তিনি কাজ করতেন।

মামুনের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের অভিযোগ করে বলেন, ইন্দুরকানী থানায় থাকাকালীন ওই থানার ওসি এনামুল হক তার স্বামীর ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি তিনি পিরোজপুর সদর থানায় যাওয়ার পরও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলেন, যাতে সেখানেও তার স্বামী নির্যাতিত হন। ৪ জুন বিকেলে বাড়িতে ফেরার পর তাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। এরপর তাকে অনেক জিজ্ঞাসা করার পর তিনি জানান, মসজিদ থেকে একটি জায়নামাজ চুরির অভিযোগে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন তাকে গালমন্দ করেন। এ ঘটনায় মামুন কোনো অঘটন ঘটাতে পারে এই আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা পুরো বিকেল এবং রাতেও তাকে পাহারা দেন। তবে সকালে বাজারে গিয়ে আগাছা নিধনের ওষুধ কিনে তা পান করেন মামুন। এরপর বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে জানালে, দ্রুত মামুনকে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এবং পরবর্তী সময়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মামুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে রওনা হন স্বজনরা। পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামুনের মৃত্যু হয় ।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ওসি এনামুল হক জানান, তার শ্যালকের স্ত্রীর সাথে মামুনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিলো । এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়ই একাধিকবার সুইসাইড করার চেষ্টা করে । মামুন এখানে (ইন্দুরকানী থানায়) থাকাকালী অবস্থায় একাধিকবার মিমাংসা করে দেয়া হয় । পরে সে এখান থেকে সদর থানায় চলে যায় ।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান,থানায় চুরি কিংবা মামুনকে গালমন্দ ও মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর আমি এ থানায় ১ মাসও হয়নি যোগদান করেছি ।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জানান, মামুনকে গালমন্দ কিংবা মারধরের কোনো বিষয় তার জানা নেই । এ ছাড়া এ বিষয়ে তিনি কোন অভিযোগও পাননি। মামুনের লেখা চিরকুটের বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন। মামুন এ বিষয়ে আগে কখনো তার কাছে কোনো অভিযোগও করেননি। চিরকুটের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

 

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরও খবর
© পিরোজপুর বার্তা সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২৩
Developed By Pirojpur Barta