1. kumarshuvoroy.bd@gmail.com : Shuvo Roy : Shuvo Roy
  2. eshuvo1@gmail.com : newsdesk :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৬ অপরাহ্ন

নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রকারী চক্র হামলা চালাতে পারে

  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ২৬ জুন, ২০২৩
  • ১৪৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিনিধি : দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রকারী চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে । এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘কি পয়েন্ট ইন্সটুলেশন’ (কেপিআই)ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি এ আশঙ্কা প্রকাশ করে সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের আগাম তথ্য পেয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা নড়েচড়ে বসেছে। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ পেয়ে নিরাপত্তার ছক কষছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীর সদস্যরা। এমনকি বেশ কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশ পেয়ে পুলিশের সব ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপাররা বিশেষ বৈঠক করছেন। নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

জানা গেছে, দেশকে চরম অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ দেশে ও বিদেশে নানা ধরনের চক্রান্ত করছে। এর প্রতিফলনও ঘটছে বহির্বিশ্বের নানা ধরনের তৎপরতায়। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত সরকারবিরোধী পক্ষগুলো। তারাও বিভিন্ন সময় নানা ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে এ থেকে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুপ্ত হামলা চালিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার নতুন ভিসানীতিতে উজ্জীবিত বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো। এরপর নতুন করে যুক্ত হয়েছে মিশন নিয়ে চক্রান্ত। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা এসব চক্রান্তগুলো তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ মসৃণ করবে। এ ধারণা থেকে তারা এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ফলে তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ থেকে তারা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বহির্বিশ্বের দৃষ্টি আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাতে পারে। এমনকি দেশে আইনের শাসন নেই বলেও তারা প্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পর তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হলে সেই বিষয়গুলো হাতিয়ার করে নতুন চক্রান্তে মেতে উঠতে পারে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বহির্বিশ্বে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার কারণে তার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারগুলোতেও। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপি ও জামায়াত নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। থানার ওসিদের নানা দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন জেলার পুলিশ সুপাররা। এমনকি বাড়তি ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প এলাকায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। বিশেষ সময়কে সামনে রেখে সুযোগ সন্ধানীরা নাশকতার চেষ্টা করে থাকে। গোয়েন্দা তথ্য আছে, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্প বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ‘টার্গেট’ করতে পারে নাশকতাকারী চক্র। এ কারণে এসব এলাকায় পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য বাড়ানো হয়েছে।’ ঊর্ধ্বতন ওই গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এরই মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট, মোংলা ও পায়রা বন্দরে বাড়ান হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লোকবলের ঘাটতি সত্ত্বেও বিশেষ নজরদারি অব্যাহত আছে। অপর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ভবন, দফতর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস ও কয়লা ক্ষেত্র, ইপিজেডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পভুক্ত এলাকায় নিরাপত্তা আগেরচেয়ে বাড়ান হয়েছে। নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান হয়েছে। তিনি বলেন, কেপিআই এলাকার কোথাও কোথাও বাইরের সাধারণ লোকদের যাতায়াত করার সুযোগ নেই। এসব এলাকায় উন্নয়ন কেন্দ্রের দেশীয় লোকদের পাশাপাশি বিদেশি লোকদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে নিরাপত্তার অজুহাত যেন কেউ তুলতে না পারে- বিষয়টি মাথায় রেখেই অ্যাডভান্স ইনটেলিজেন্সের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৪শ’ স্থাপনা বিভিন্ন ক্যাটাগরির আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষ নজর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তিনি জানান, নাশকতা করতে পারে এমন অনেকে গোয়েন্দা জালে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া সমন্বিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কেপিআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ই একটু ভিন্ন রকমের থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বলেই এ বিষয়ে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা গোপন রাখা হয়। কেপিআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখার সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরও খবর
© পিরোজপুর বার্তা সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২৩
Developed By Pirojpur Barta