1. kumarshuvoroy.bd@gmail.com : Shuvo Roy : Shuvo Roy
  2. eshuvo1@gmail.com : newsdesk :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৯ অপরাহ্ন

সরকারি দল আওয়ামীলীগ : বিরোধী দল কে

  • প্রকাশের সময়ঃ সোমবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৪৮ জন দেখেছেন
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

পিরোজপুর বার্তা ডেষ্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বড় যে প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে, সেটা হলো সংসদের বিরোধী দল কে হচ্ছে? বিরোধী দল নিয়ে ধোঁয়াশায় এখনো চলছে, স্বতন্ত্র না জাতীয় পার্টি (জাপা) এই প্রশ্নই চলছে । যদিও জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে তাদের নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে দাবি করছে ।

যদিও  গত দুই মেয়াদ ধরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনের পরও যে দলটি প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারে বসে আসছিল, সেই জাতীয় পার্টির এবার ভরাডুবি হয়েছে। দলটি এবার মাত্র ১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৬২টি আসনে।

আগামী ৩০ জানুয়ারি প্রথম সংসদ অধিবেশনের তারিখও ধার্য হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি বিরোধী দল কারা হবে। জাতীয় পার্টি নাকি স্বতন্ত্র এমপিদের মোর্চা- এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে কিছু না বলায় কাটছে না ধোঁয়াশা।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটা নির্ভর করছে সংসদ নেতা ও স্পিকারের ওপর। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কে বসবে বিরোধী দলের চেয়ারে।

সংবিধান বা সংসদ পরিচালিত হয় যে কার্যপ্রণালি বিধির দ্বারা, তার কোথাও বিষয়টি স্পষ্ট নয় যে, সংসদের বিরোধী দল হওয়ার জন্য ন্যূনতম কতগুলো আসন পেতে হবে। তবে এরকম একটি রেওয়াজ আছে যে, মোট আসনের অন্তত এক দশমাংশ না পেলে সেই দলকে বিরোধী দল বলা যায় না। তার মানে ৩০০ আসনের সংসদে অন্তত ৩০টি আসন থাকতে হবে।

অণ্যদিকে প্রতিবেশী ভারতে এই চর্চা রয়েছে। যেমন: এই মুহূর্তে ভারতের লোকসভায় কোনো বিরোধী দলীয় নেতা নেই। ৫৪৫ জনের ভারতের লোকসভায় কমপক্ষে এক–দশমাংশ আসন না পেলে সেই দলকে বিরোধী দল হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয় না।

বাংলাদেশের সংবিধান বা কার্যপ্রণালিবিধিতে বিরোধী দলের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। বরং স্পিকার চাইলে তার বিবেচনামতে সংসদে বিরোধিতাকারী দল বা সংঘের নেতাকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। এখানে তার একক ক্ষমতা রয়েছে। অবশ্য স্পিকার সাধারণত সংসদ নেতার সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

জাতীয় পার্টিকেই বিরোধী দল ঘোষণা করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মোর্চা বিরোধী দলে বসতে পারে এমন একটা গুঞ্জন জোরেশোরে প্রচারিত হচ্ছে।

বিরোধী দলের আসনে বসার ব্যাপারে স্বতন্ত্রদের মধ্যে প্রকাশ্যে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বিজয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য একে আজাদ। তিনি বলেন, যেহেতু জাতীয় পার্টি মাত্র ১১টি সিট পেয়েছে আর স্বতন্ত্র পেয়েছে ৬২টি, যদি নেত্রী (শেখ হাসিনা) মনে করেন, আমাদের বিরোধী দল গঠন করা উচিত৷

নওগাঁ-৬ থেকে বিজয়ী স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে জয়ী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক৷ তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে নেত্রী নৌকা প্রতীক দিতে পারেননি৷ কিন্তু তিনি তো আমাকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন৷ আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক৷ শেখ হাসিনা আমার নেতা৷ তাকে সহযোগিতা করাই আমার কাজ৷ সরকারি দল বা বিরোধী দল ওসব কিছু না৷ নেত্রী যা বলবেন আমি তাই করব৷ আর এর পরেরবার আমি তো নৌকা প্রতীক পাবো নিশ্চিত৷

তবে দুই-একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বিচ্ছিন্নভাবে এই বিষয়ে কথা বললেও এটা নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো কথা বা বৈঠক হয়নি৷ সরকারের সঙ্গেও তারা এ নিয়ে কোনো যোগাযোগ করেননি বলে জানা গেছে৷

প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজন সদস্য ছাড়া বাকি সবাই আওয়ামী লীগের৷ আর আওয়ামী লীগের যারা তাদের মধ্যে দুইজন বাদে সবারই দলীয় পদ আছে। সুতরাং তারা কীভাবে বিরোধী দল হবে, এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের বিরোধী দলে বসতে আইনগত কোনো বাধা নেই জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেন, স্বতন্ত্রদের বিরোধী দল হতে সংবিধান বা আইনে কোনো বাধা নেই৷ তাদের দেখাতে হবে তাদের যে দল বা অধিসঙ্গ তা এখন যে বিরোধী দল আছে (জাতীয় পার্টি) তাদের ১১ জনের চেয়ে স্বতন্ত্রদের সংখ্যা বেশি৷ তবে কার্যপ্রণালী বিধিতে শর্ত আছে৷ বিরোধী দলীয় নেতাকে তার দল নিয়ে সরকারের বিরোধিতা করতে হবে৷ এখন কেউ যদি বলে সে সরকারি দলের কমিটিতে থেকে সরকারি দলের বিরোধিতা করবে এটা তো কন্ট্রাডিকটরি হয়৷ তারা দলীয় পদ বহাল রেখে সম্ভবত বিরোধী দল হতে পারবে না।

তবে তিনি তিনি মনে করেন, যদি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা দলীয় পদ স্থগিত করে বিরোধী দল হন তাহলে হয়তো হতে পারে৷ তবে আমার মনে হয় প্রাকটিক্যালি এটা হওয়ার সম্ভাবনা কম৷

এদিকে, নিজেদের বিরোধী দল বলে দাবি করছে জাতীয় পার্টি৷ তারা বলছে, বিরোধী দলের বিষয়টি মীমাংসিত। এটা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। যদিও জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন, যদি আওয়ামী লীগ না চায় তাহলে ভিন্নকথা। আর মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, আমরাই বিরোধী দল৷ বাকিটা এখন স্পিকারের এখতিয়ার৷

 

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরও খবর
© পিরোজপুর বার্তা সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২৩
Developed By Pirojpur Barta